সৎ উপার্জনের সম্মান (১ম পর্ব)

●|● সৎ উপার্জনের সম্মান (১ম পর্ব) ●|●
আজকের খুতবা একটি কঠিন বিষয় নিয়ে। আমি অনুভব করি এটি আমার এবং আপনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মরণিকা। এটা এমন কিছু যা সহজলভ্য হিসেবে মনে করা হয়। আমি শুরু করছি সূরা হুজুরাতের একটি আয়াত দিয়ে। যা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জ্বাল বলেছেন এই ঘোষণা দেয়ার পর যে, ‘ইন্নামাল মু’মিনুনা এখওয়াহ’ – মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই। আমাদের নিজেদের মাঝে শান্তি এবং মীমাংসা প্রতিষ্ঠা করা উচিত। এই ঘোষণাটি দেয়ার ঠিক পরের নির্দেশনা হলো – ‘يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِّن قَوْمٍ’
হে ঈমানদারগণ, কোন সম্প্রদায় যেন অপর কোন সম্প্রদায়কে বিদ্রূপ না করে।
এক জাতি যেন অন্য জাতিকে নিয়ে উপহাস না করে। এক শ্রেণীর লোকজন যেন অন্য শ্রেণীর লোকজনকে নিয়ে উপহাস না করে। আগের দিনে আরবরা ‘কাউম’ বলতে গোত্র বুঝতো। তো, তখন এক গোত্রের লোকজন নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ মনে করতো এবং তারা অন্য গোত্রকে নিয়ে উপহাস করতো। আপনাদের মাঝে যারা পাকিস্তান, বাংলাদেশ বা ইন্ডিয়া থেকে এসেছেন … পাকিস্তানিরা হয়তো বাংলাদেশিদের নিয়ে উপহাস করেন, পাঞ্জাবিরা হয়তো উর্দু ভাষাভাষীদের নিয়ে উপহাস করেন, অথবা মরক্কোর মানুষ হয়তো আলজেরিয়ার মানুষকে নিয়ে ব্যঙ্গ করেন। যাই হউক না কেন। এটা আয়াতের একটা অর্থ। আজকের আলোচনার বিষয় কিন্তু এটা নয়।
অন্য দলকে নিয়ে এই ব্যঙ্গ করার অনেকগুলো দিক রয়েছে। প্রথমে আমি ‘সুখ্রিয়া’ বা ‘সাখীরা’ শব্দটির অর্থ ব্যাখ্যা করতে চাই। আজকের আয়াত لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِّن قَوْمٍ -এ শব্দটির ক্রিয়াপদ ‘ইয়াস্খার’ ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যঙ্গ করা বা কৌতুক করা বুঝাতে আরবিতে অনেকগুলো শব্দ রয়েছে। কিন্তু এই বিশেষ শব্দটির দুইটি দিক রয়েছে। একটা দিক হলো – কোন কিছু নিয়ে মজা করা। যদি কোন কিছু মজাদার হয় আপনি সেটা নিয়ে অবশ্যই হাসতে পারেন। কাউকে দেখতে মজার দেখায়, কেউ মজার কোন আচরণ করে, কেউ হয়তো মজা করে চিৎপটাং হয়ে পড়ে যায় বা যাই হউক এরকম কিছু একটা। আপনি সেসব বিষয় নিয়ে হাসতে পারেন।
কিন্তু এই শব্দটির মাঝে ‘তাজখির’ অর্থও নিহিত আছে। যা আল্লাহ বর্ণনা করেছেন যখন আমরা কোন প্রাণীকে আয়ত্তে আনি। অথবা তিনি যেভাবে মেঘমালাকে স্বীয় আয়ত্তে রেখেছেন তা বর্ণনা করতে এই শব্দ ব্যবহার করেছেন। আমি যা বলতে চাচ্ছি তা হলো – যখন আপনি কাউকে নিয়ে উপহাস করেন, তখন ধরে নেন যে তারা আপনার চেয়ে নিচু, হীন, তারা কোন ভাবে আপনার অধনস্ত। ঠিক এরকম মানসিকতা নিয়ে আপনি তার সম্পর্কে চিন্তা করেন। অথবা আপনার আচরণের কারণে সে নিজেকে ছোট মনে করে। এটাও আসলে – لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِّن قَوْمٍ
অন্য কথায়, কুরআনে বর্ণিত এই বাক্যাংশটির একটি নিহিতার্থ হলো – বিশ্বাসীরা যেন অন্য কোন বিশ্বাসীর সাথে এমন কোন আচরণ না করে যার ফলে তারা নিজেদের ছোট মনে করে। তারা মনে করে তাদের মূল্য কম, নিজেদের কাছে নিজেরাই ছোট হয়ে পড়ে। সেই অনুভব … আবার বলছি, এই আচরণ আসতে পারে কোন গোত্র থেকে, জাতি থেকে। এছাড়া আরও অনেক জায়গা থেকে এটা আসতে পারে। তাই আজকে আমি এরকম একটি জায়গার উপর আলোকপাত করতে চাই, যেখান থেকে এই ধরণের মানসিকতার উদ্ভব ঘটে। যে ব্যাপারে বিশেষভাবে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
আমি আসলে রাসূল (সঃ) এর একটি হাদিস দিয়ে শুরু করতে চাই। রাসূল (সঃ) বলেছেন مَا أَكَلَ أَحَدٌ طَعَامًا قَطُّ خَيْرًا مِنْ أَنْ يَأْكُلَ مِنْ عَمَلِ يَدِهِ وَإِنَّ نَبِيَّ اللهِ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَم كَانَ يَأْكُلُ مِنْ عَمَلِ يَدِهِ – “নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য কখনো কেউ খায় না।” যখন আপনি নিজ হাতে উপার্জন করেন, আর সেই উপার্জনের টাকা দিয়েই আপনি খাবার খান, তা যে কোন খাবারই হউক না কেন, যদি এক কামড়ও হয়, সেটাই আপনার জীবনের সবচেয়ে সেরা খাবার। সেটা তিন দিন আগের বাসি পিজা বা বাসি কোন পটেটো চিপস হউক না কেন – আপনার শুধু এটাই কেনার সামর্থ্য ছিল- এটা কোন ব্যাপার না। এখানে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো সেই এক টুকরো খাবার আপনি নিজ হাতে উপার্জন করেছেন। তাই এটার চেয়ে উত্তম কোন খাবার খাওয়া আপনার পক্ষে সম্ভব নয়। এই বক্তব্যের সাথে আরও যোগ করে রাসূলুল্লাহ (স) একটি উদাহরণ পেশ করেন। আর যেই উদাহরণটি তিনি পেশ করেন তা হলো – وَإِنَّ نَبِيَّ اللهِ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَم كَانَ يَأْكُلُ مِنْ عَمَلِ يَدِهِ “আল্লাহর নাবী দাঊদ (আঃ) নিজ হাতে উপার্জন করে খেতেন।”
দাউদ (আ) সম্পর্কে আমরা সবাই জানি, তিনি ছিলেন মানব ইতিহাসের অন্যতম একজন সেরা শাসক। আল্লাহ নিজেই বলেছেন – يَا دَاوُودُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ – “হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছি।” ইহুদীদের ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি – তাঁর সাম্রাজ্য এতো বড় ছিল যে তখনকার জানা দুনিয়ার এমন কোন জায়গা ছিল না যা তাঁর সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। আপনি এভাবে মনে করতে পারেন – মানব জাতির ইতিহাসে অন্যতম মহান একজন শাসক ছিলেন দাউদ (আ)। বস্তুত, যখন আদম (আ) এর সম্মুখে তাঁর সকল সন্তানকে উপস্থাপন করা হয়, তখন দাউদ (আ) এর প্রতি তাঁর দৃষ্টি পতিত হয়। তিনি দাউদ (আ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। আল্লাহর একজন বিশেষ নবী ছিলেন তিনি।
এই মহান শাসক, সম্রাট, নবী সম্পর্কে আমাদের রাসূল (স) কী বলেন? তিনি বলেন – “আল্লাহর নাবী দাঊদ (আঃ) নিজ হাতে উপার্জন করে খেতেন।” কুরআন দাউদ (আ) সম্পর্কে কী বলে? তাঁর সরকারের ব্যাপকতা সম্পর্কে বর্ণনা করার পরিবর্তে- উদাহরণস্বরূপ, তিনি কীভাবে তাঁর সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করতেন, কতগুলো যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন, ইত্যাদি বর্ণনা করার পরিবর্তে কুরআন কী বলে? আমি একটি বর্ণনা আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। আল্লাহ তায়ালা বলেন – وَلَقَدْ آتَيْنَا دَاوُودَ مِنَّا فَضْلًا – “আমি দাউদের প্রতি অনুগ্রহ করেছিলাম”। কিছু কিছু অনন্য সাধারণ বিষয় শুধু তাঁর প্রতি অলৌকিক ছিল। উদাহরণস্বরূপ – ۖ يَا جِبَالُ أَوِّبِي مَعَهُ – “হে পর্বতমালা, তোমরা দাউদের সাথে আমার পবিত্রতা ঘোষণা কর”। وَالطَّيْرَ ۖ- “এবং এবং হে পক্ষী সকল, তোমরাও।” তারপর তিনি বলেন- وَأَلَنَّا لَهُ الْحَدِيدَ – ” ” أَنِ اعْمَلْ سَابِغَاتٍ وَقَدِّرْ فِي السَّرْدِ “আমি তাঁর জন্য লৌহকে নরম করে ছিলাম।” অন্য কথায় – তিনি শিখেছিলেন যে কীভাবে লোহাকে গলাতে হয় এবং সেটাকে বিভিন্ন আকৃতি দিতে হয়। তারপর আল্লাহ সরাসরি তাঁকে নির্দেশনা দান করেন। “প্রশস্ত বর্ম তৈরী কর, কড়াসমূহ যথাযথভাবে সংযুক্ত কর”। অন্য কথায়, আল্লাহ তাঁকে লোহা দিয়ে কাজ করার ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা দিলেন।
এখন দাউদ (আ) সম্পর্কে এই সমস্ত বিষয়গুলো নিয়ে একসাথে চিন্তা করি। তাঁর কাজের কাঁচামাল সংগ্রহের জন্য তিনি পাহাড়ে যেতেন, তখন তিনি দেখতেন পাখিরা তাঁর সাথে সাথে আল্লাহ তায়ালার গুণকীর্তন করছে, তারপর তিনি সেই কাঁচামালগুলো নিয়ে আসতেন। তিনি সেগুলো নিয়ে কাজ শুরু করতেন, সেই লোহাগুলো পোড়াতেন, গলাতেন একজন লোহামিস্ত্রির মতো। আজকের দিনে এই কাজগুলোকে আপনারা হয়তো নিম্নমানের কাজ মনে করেন, তারা লোহা নিয়ে কাজ করছে, পোড়াচ্ছে, গলাচ্ছে, বাজে গন্ধ ছড়াচ্ছে, মানুষ তাদের নিকটেও যেতে চায় না। তাদের গোটা শরীর লোহা থেকে ছড়ানো কালো বালিতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এই কাজটাই সারাদিন ধরে তারা করে। এটা এমন কাজ নয় যে আপনি পাঁচ দশ মিনিট করলেন তারপর শেষ। আপনি সমস্ত দিন এই কাজ করেই কাটিয়ে দেন, ক্লান্ত হয়ে পড়েন। এটা শারীরিক পরিশ্রমের কাজ, নীল-পোশাকের মানুষদের কাজ, ফ্যাক্টরিতে কাজ করার মত। আর দাউদ (আ) এই কাজটিই করতেন।
এই উদাহরণটি রাসূলুল্লাহ (স) আমাদেরকে প্রদান করেন। আর ঠিক এই উদাহরণটি বর্ণনা করার শুরুতে আল্লাহ বলেন – আল্লাহ দাউদ (আ) কে একটি বিশেষ অনুগ্রহ প্রদান করেছেন। তিনি তাঁকে এভাবে কাজ করা শিখিয়েছেন। এখন আমি যে বিষয়টা বলতে চাচ্ছি তা হলো- আল্লাহর নিকট থেকে এই উদাহরণটি পেশ করার মাধ্যমে আল্লাহর রাসূল (স) পৃথিবীর সকল কাজকে সম্মান প্রদান করেছেন। যখন আপনি একটি ট্যাক্সি চালাচ্ছেন, যখন আপনি একটি ক্যাশ রেজিস্টারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন, যখন আপনি পিজা ডেলিভারি দিচ্ছেন, যখন আপনি কোন এয়ারপোর্টে পরিষ্কারের কাজ করছেন এবং বাথরুম পরিষ্কার করছেন, যখন আপনি সেকিউরিটি গার্ডের চাকরি করছেন…আর যখন কেউ জিজ্ঞেস করে কী চাকরি করেন আর আপনি লজ্জিত হয়ে পড়েন যে কি জবাব দিবেন। আপনি হয়তো তখন ভাবেন – ও তাঁর তো একটি ডিগ্রি আছে সে একাউন্টেন্ট, তাঁর একটা অফিস আছে, অমুক লোক প্রোগ্রামার, অমুক লোক ডাক্তার, অমুক লোক ইঞ্জিনিয়ার, আর আমিতো মাত্র একজন ট্যাক্সি চালক। আমিতো মাত্র একটা মুদি দোকানে কাজ করি। আমিতো শুধু ট্র্যাক চালাই। আপনি অনুভব করেন যে, আমার তো দাম কম, কারণ আমি এই ধরণের কাজ করি।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সব ধরণের হালাল কাজকে সম্মানিত করেছেন। আর রাসূল (স) বলেন – “নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য কখনো কেউ খায় না।” এভাবেই আল্লাহ সব কাজকে মর্যাদাবান করেছেন, এবং তিনি একজন নবী দাউদ (আ) এর উদাহরণ পেশ করেন যিনি শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করতেন। রাসূল (স) এর আরেকটি হাদিস শুনুন, আমি এই হাদিস শুনে খুবই অনুপ্রাণিত হয়েছি। أما إنه إن كان يسعى على والديه أو أحدهما فهو في سبيل الله – যদি কেউ তার পিতা মাতা উভয়ের বা একজনের ভরণপোষণের জন্য প্রচেষ্টা চালায়, তবে সে আল্লাহর পথে আছে।
আপনার পিতা মাতা বৃদ্ধ হয়ে পড়েছেন, কোন কিছু উপার্জন করা তাদের পক্ষে আর সম্ভব নয়। আর তাই আপনাকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। আপনার নিয়মিত চাকরি হয়তো আপনার নিজের ভরণপোষণের জন্য যথেষ্ট, কিন্তু পিতামাতার জন্য আপনাকে এখন অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। তারা অসুস্থ এবং বৃদ্ধ হয়ে পড়েছেন, তাই তাদের জন্য টাকা দিতে হয়। আর তাই আপনার ফ্রি সময়টাতেও আপনাকে অতিরিক্ত কাজ করতে হচ্ছে। তো, কেউ যখন এরকম পিতামাতা উভয়ের জন্য বা একজনের ভরণপোষণের জন্য প্রচেষ্টা চালায়, তবে সে অবস্থাকে রাসূল (স) কী বলেন – ‘ফাহুয়া ফি সাবিলিল্লাহ’। তবে সে আল্লাহর পথে আছে। সে লোক আল্লাহর পথে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আল্লাহর নিকট তা সম্ভ্রান্ত কাজ।
এই মানুষটার হয়তো খারাপ লাগতে পারে এই ভেবে যে, আমি অনেক বেশী বার মসজিদে আসতে চাই কিন্তু আসতে পারি না। আমি আমার মত করে অনেক বেশী কুরআন তিলাওয়াত করার সময় পাই না। আগে আমি জ্ঞানার্জনের জন্য কত সময় ব্যয় করতাম! আর এখন আমি সব সময় কাজ করি। কারণ আমাকে আমার পরিবারের ব্যয় বহন করতে হয়।
আমার মনে হচ্ছে, আমি দুনিয়াকে সকল সময় দিয়ে দিচ্ছি, আগে আমি আল্লাহর দ্বীনের জন্য কত সময় ব্যয় করতাম! এই পরিস্থিতিতে আল্লাহর রাসূল (স) আপনাকে বলেন, না, এটাও আল্লাহর পথে।
তারপর, এমন নিরুপায় মানুষও আছে, তারা এতো পরিশ্রম করে যে, তারা যে কাজই পায় তাই করে, কিন্তু তারপরেও কোন মতে সংসার চালায়। তারা কোন মতে নিজেদের খরচ বহন করছে। দিনে আনে দিনে খায়, এইরকম। তাদের সম্পর্কে রাসূল (স) কী বলেন? وإن كان يسعى على نفسه فهو في سبيل الله – আর যদি সে শুধু নিজের জন্য প্রচেষ্টা চালায় সেটাও আল্লাহর পথে। সেটাও সম্মানিত। এটাই আমাদের ধর্মের সৌন্দর্য। আল্লাহ মানুষকে সম্মানিত করেন, আর আমরা কী করি? আমরা তাদের দিকে নিচু দৃষ্টিতে তাকাই। আমাদের আচরণের কারণে তারা নিজেদের ছোট মনে করে।

@templatesyard