ছেলেরা কিভাবে মেয়েদের কৌশলে ফাঁদে ফেলে – নুমান আলী খান

(১ম পর্ব)

“এবং তিনি জানেন যা তোমরা ম্যানুফ্যাকচার করো”। আল্লাহ এখানে ছেলেদের উদ্দেশ্য করে বলছে যে তারা একটা মেয়েকে যে কৌশলে, যে প্ল্যান করে নিজেদের দিকে প্রেমে, জেনায় বা মেলামেশার দিকে টানে। এই “ম্যানুফ্যাকচার” মানে কি? ম্যানুফ্যাকচার মানে উৎপাদন। উৎপাদনে কি থাকে? একটা সুনির্দিষ্ট প্ল্যান! হ্যা, একটা ছেলে যেকোন মেয়েকে কৌশলে নিজের আয়ত্বে আনতে প্ল্যান অনুযায়ীই আগাতে থাকে।
যেমন ধরূন একটা গাড়ি তৈরি করতে কতগুলো পার্টস লাগবে, কতটুকু এবং কি কি রঙ লাগবে, কোন অংশ আগে জোড়া দিতে হবে, কোন অংশ শক্ত হতে হবে, কোন অংশ নরম হবে, কোনটিকে কত বছরের টেকসই হিসেবে দিতে হবে, গাড়িটি তৈরি করতে কত সময় লাগবে, মার্কেটিং কেমন করবো, বিক্রি করবো কোথায়-কীভাবে ইত্যাদি সবই প্ল্যান করা থাকে পূর্ব থেকেই। এই প্ল্যান আশাপূর্ণ ফল লাভের জন্য খুবই কার্যকরী আর বিপরীতে প্ল্যান না থাকলে লস হবে। এভাবে একটা ছেলে যখন মেয়েকে নিয়ে গেইমের মতো প্ল্যান করে, সেটাও আল্লাহ জানে।
প্রথমে ছেলেটা মেয়ের দিকে তাকায়, এরপর পিটপিট করে-মিটমিট করে তাকানো, তারপর একটু কৌশলে জিজ্ঞেস করা তোমার ফেইসবুকে একাউন্ট আছে? কি নামে? এভাবে কৌশলে একটু কাছে এসে বলে আমি আসলে তোমাকে ইসলাম বিষয়ে আরো হেল্প করতে চাই, ঐ জায়গায় কিন্তু ইসলামী আলোচনা হয়, চলো না যাই একদিন, ঐ ফেইসবুক গ্রুপে অনেক সুন্দর আলোচনা হয়, ঐখানে জয়েন করাই? আর মেয়েটিও এভাবে বলে হ্যা, অবশ্যই, এই যে আমার ফেইসবুক একাউন্ট, আমাকে ভালো ভালো গ্রুপে এড করে দিবেন প্লিজ। এভাবে ছেলের সাথেও এড হওয়া শুরু হলো, সাথে বিভিন্ন গ্রুপেও।
এভাবে ছেলেটা সাধারণ কথাবার্তা চালাতে থাকে মেয়েটির সাথে –তুমি কি হোমওয়ার্ক করেছো? তোমার এসাইনমেন্টের টপিক যেনো কি ছিলো? এসবই ছেলেটির প্ল্যানের অংশ, দীর্ঘ প্ল্যানের অংশ – এভাবে ছেলেটি মেয়েটিকে কাছে পেতে চাচ্ছে, একান্তে, একার করে, প্রেমের দিকে-জেনার দিকে-আল্লাহর অবাধ্যতার দিকে-শয়তানের সাথী হতে, জাহান্নামী হতে।
ছেলেটি জিজ্ঞেস করে, তোমার এসাইনমেন্ট কি শেষ হয়েছে? তুমি তো এক্সপার্ট, আমাকে একটু পরামর্শ দাও তো কিভাবে ভালো করা যায়। ক্লাসে একশত ছাত্র থাকতে একটি মেয়ের কাছে কেন সে জিজ্ঞেস করছে? প্ল্যান, পুরোটাই ম্যানুফ্যাকচারিং এর প্ল্যান। আজকে সে একটু কথা বলবে, এরপরের দিন আরো একটু বেশি, এরপরে মোবাইল একটু ফ্রি হলে মোবাইল নাম্বার আদান প্রদান, এরপরে একদিন বলবে, হেই, ঐ রেস্টুরেন্টের দারুন একটা রেসিপি আছে, চলো যাই। এরপরে কোন একদিন বলবে, এই একটু একা আসো তো, চলো একটু নিরিবিলিতে একা গল্প করি, একটু হাটাহাটি করি।
দেখবেন আপনি যে কোর্সে সাইন করেছেন ছেলেটিও ঠিক সেই কোর্সেই সাইন আপ করেছে। সে বলে বসবে, তুমি ঐ কোর্সের না? আর সে বোঝাবে আরে আমিওও তো ঐ কোর্সে-ই নিয়েছি! এটা তার প্ল্যানের অংশ, সে প্ল্যান করেই করেছে এটা। এমন নয় যে ছেলেটি ঐ কোর্সটি ভালোবাসে, বরং এখানে আপনিই তার প্ল্যানের অংশ, কোর্সটি নয়। আর তার একই কোর্সের কথা শুনে আপনিও আহলাদে আটখানা হয়ে বলেন, কি আশ্চর্য!! একই কোর্স! অথচ ছেলেটির কাছে আপনি তার গেমের অংশ, প্ল্যানের অংশ, জেনার অংশ, জেনার দিকে বাগানোর শুরুর অংশ। এটা মেয়েদের গাফলাহ – অতি মাত্রার অবহেলা। কিছু মেয়ে এগুলো বুঝতে পারে কিন্তু অনেক মেয়েদেরাই এগুলো বুঝতে পারে না। এই সব মেয়েদের এতো বেশি মাত্রার সরলতা-বোঝহীনতা খুবই অসস্বতিকর। তারা এতটাই উপলব্ধিহীন সরল যে জানেই না কি হতে যাচ্ছে চারিপাশে! আপনার চিন্তা ছেলেটি বলছে এসাইনমেন্টে সহযোগিতা করতে? আপনার মাথা খারাপ? কোন দুনিয়ায় থাকেন আপনি?
এই ছেলেটি এসে আপনার কাছে ইসলাম নিয়ে জিজ্ঞেস করে। আপনি ভাবেন আহ, ছেলেটি ইসলাম নিয়ে জানতে চাচ্ছে। গতকাল আপনি তার সাথে চার ঘন্টা শরিয়া নিয়ে কথা বলেছেন। একজন আলেমকে এসে জিজ্ঞেস করলেন, আমি কি তার সাথে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারি? সে অনেক কিছু জানতে চায় ইসলাম নিয়ে, অনেক প্রশ্ন আছে তার, আমি কি তাকে সাহায্য করতে পারি? এই ধরুন তার প্রশ্নগুলো নিয়ে কলেজ/ভার্সিটিতে বসে তাকে উত্তর দেওয়া, একটু রেস্টুরেন্টে খেতে খেতে বা মাঠে বাদাম খেতে খেতে তার প্রশ্নগুলোর যুক্তিসই উত্তর দেওয়া। আলেম বলল, আমার পাঠিয়ে দেন, আমি কথা বলি, তার সব প্রশ্নের উত্তর দেই। আপনি বলেন, না না, সে আমার সাথে ঐগুলো নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করে, কমফর্ট ফিল করে – যেহেতু প্রথম থেকেই আমিই তার ইসলাম নিয়ে কথা শুরু করেছিলাম। এরপরে কিছুদিন পরে বলবে, আমি ভালো হতে চাই, আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই, কারণ আমি তোমার কাছেই ইসলাম শিখেছি, তোমার সাথে থেকেই আরো শিখতে চাই আর এটা তোমার সাথে না থাকলে হবে না।
আমি ছেলেটির ব্যাপারে কিছু বলতে চাচ্ছি না আর! কিন্তু আপনার কি মনে হয় বিষয়টা সম্পর্কে? এই ছেলেটি প্ল্যান করেই এসব করেছে, ম্যানুফ্যাকচারিং এর প্ল্যান। এইটা কেবল আপনার জন্য ইসলামে আসা না, সে আপনাকে পাওয়ার জন্যই এত কিছু করেছে! তার নিয়ত আপনাকে পাওয়া, প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা, আপনার আগ্রহের জায়গায় আসা ছিলো তার প্ল্যান, আপনার সাথে কথা বলার বাহানা, আপনার কাছে ভালো সাজার পরিকল্পনা, আপনার কাছে আসার গল্পের সূচনা – প্রেম-জেনার প্ল্যানের অংশ।
মেয়েদের এসব ব্যাপারে এত বোকা হলে চলবে না। তাদের শক্ত কথা শেখা উচিৎ, ছেলেদেরকে দূরে সরিয়ে রাখার মতো ভয়েস তাদের দেখানো দরকার। ওহ, আপনি কি ফেইসবুকে আছেন? – আছি কি না আছি তাতে আপনার কি? অ্যাআ? এভাবে শক্তভাবে বলে দিন। সে আর আপনার চারপাশে ভুলেও জিজ্ঞেস করার জন্য আসবে না, পর্ব শেষ, খতম। এভাবে বললে আপনার আর ঐ ধরণের সমস্যা থাকবে না। যা করতে হবে আপনাকে সেটা হলো শক্ত কথা বলা। আপনার ভয়েস সোজাসুজি রাখুন, সরাসরি শক্ত কথা বলে দিন, এই ক্ষেত্রে প্রস্রয় না দেওয়ার ক্ষেত্রে আপনাকে শক্ত ভয়েস নিতেই হবে ছেলেটির প্ল্যানের অংশ থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে, নিজেকে অনাগত সমস্যা থেকে বাঁচাতে।
আপনাকে আরো একটা কাজ করতে হবে, ছেলেদের দেখে কখনই হাসবেন না, কখনই না। আপনি যখন একটা ছেলের দিকে তাকিয়ে হাসি দেন, আপনি নিজেও জানেন না কতটুকু কি করলেন। ছেলেটির মাথার মধ্যে তখন চিন্তা আসে, অহহহহহ, ইয়াহহুউউ, অ অ অ …। আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না ছেলেটির ওপর হাসির প্রভাব কত বিশাল হতে পারে। অহ মাই গড, তার হাসি কি যাদুকরী, কি অপরূপ সে হাসি – ছেলেটি একেবারেই এডিক্টেড হয়ে যায় এই হাসির প্রতি অথচ আপনি কিচ্ছু জানে না, আপনার কোনো ধারণাই নেই কি করেছেন। এরপর ছেলেটি কি করে? ঐ যে ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান, সেই গেইম প্ল্যান, আপনাকে নিয়ে প্ল্যান করে ফেলে দীর্ঘ দিনের, কীভাবে বশে আনা যায়। এরপর আপনাকে সে আপনার সামনে এমন কিছু করে, এমন কিছু বলে যা আপনাকে হাসায়, আপনাকে আনন্দ দেয়। আপনাকে কেউ বারণ করলে, আপনি চট জলদি জবাব দিয়ে দেন, আমি তো অন্য কিছু করছি না তার সাথে, সে খুবই ফানি – জাস্ট এটুকুই! ইন্নাল্লাহা খাবিরুম বিমা ইয়াসনাউন – আল্লাহ এসব কিছুই জানে। অথচ আপনি চাইলেই আপনার চক্ষু এবং মাথাকে অবনত করতে পারতেন, হাসি না দিতে পারতেন – তাহলে ছেলে আগ্রহবোধ করতো না, এরকম প্ল্যান করতে পারতো না, আপনার প্রভাব তার ওপর পরতো না। আপনি যদি কেবল আপনার হাসি না দিতেন, নিজেকে অবনত করে রাখতেন, শক্ত ভয়েস দাড় করাতে পারতেন, তাহলে সে এতো প্ল্যান করতে পারতো না- তাহলে সব কিছুই পালটে যেতো – সে আপনার কোর্সে এনরোল করতো না, আপনার ফেইসবুক একাউন্ট চাইতো না, মেসেজে চ্যাট করতো না, ধীরে ধীরে একান্তে মেলামেশার সুযোগ পেতো না – এগুলো কিছুই হতো না আপনি সুযোগ না দিলে। আপনি চাইলেই আপনার নিজেকে এবং আরেকজনকে শয়তানের প্ল্যান থেকে রক্ষা করতে পারতেন – কিন্তু আপনার বোঝহীন উপলব্ধির কারণে, আপনার সুযোগ দেওয়ার কারণে, দৃঢ় ভয়েস না থাকার কারণে সবকিছু ভিন্ন পথে, ভ্রষ্ট পথে চলতে থাকে।
আর এখন তো ফুসবুকের বদৌলতে অনেক কিছু হচ্ছে! ক্লাসের গ্রুপ ফটো! ইফতার পার্টির মিক্সিং ফটো এটা অমুক রেস্টুরেন্ট! এখন আপনি ফেইসবুকে শত শত ঘন্টা হাসির ফটো দিয়ে রাখছেন! আর কেউ আপনাকে এ ব্যাপারে বললেই তাকে এক্সট্রিম বলেন। অকে, আপনি এক্সট্রিমই ই থাকেন এসব ক্ষেত্রে, এইসব ফেইসবুকের কাজ, গ্রুপ ফটো, এমনকি ফেইসবুকে একাউন্ট না থাকলেও আপনি বেচে থাকবেন।
আপনাকে আপনার ওয়াইফ নিয়ে জড়াজড়ির ছবি ফেইসবুকে দিতে হবে কেন? এগুলো ঘরের জিনিস, আপনি বাইরে আনবেন কেন এগুলো? এগুলো ঘরের একেবারেই ভেতরে থাকবে, এজন্য আল্লাহ কারো ঘরে ডুকতে সালাম বা নক করে অনুমতি নিতে বলছেন অথচ আপনি সেটাই পাবলিকলি দিচ্ছে সবার সামনে! এখন তো তার নক করারও দরকার হয় না, জাস্ট ক্লিক করলেই হলো – আপনি নিজে অন্যের ঘরে চলে এসেছে! আল্লাহ আপনাকে গোপনীয়তা রক্ষার জন্য নকের ব্যবস্থা করলেন, আর আপনি সেটা থেকে বেরিয়ে মানুষের ঘরে ডুকে গেলেন!
আমি বলছি না ফেইসবুক হারাম, কিন্তু আপনাকে মাথায় রাখতে হবে এটা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে – আপনার হাসি ঘন্টার পর ঘন্টা, দিনের পর দিন কেন দেখবে আরেকজন? কেন সে সে হাসি দেখে আপনার পেছনে গেইম প্ল্যান করবে? কেন আপনার অন্দর মহলের বিষয়াদি ফেইসবুকে অন্যের জন্য ওপেন করে দিবেন? ফেইসবুক ব্যবহার করলে সুন্দর করে করেন, কার্যকরীভাবে করেন এর ব্যবহার।
বি.দ্রঃ আমরা এটি উস্তাদ নুমান আলী খানের Girls beware: How boys “manufacture” plans!! Br. Nouman Ali Khan লেকচার থেকে বাংলাভাষাভাষীদের উপযোগী করে তৈরি করেছি। এটি হুবহু অনুবাদ নয়, বরং লেকচারের ভাবকে নিয়ে বাংলায় লিখিত।


প্রেম ও হারাম সম্পর্কঃ বাঁচার উপায় – উস্তাদ নুমান আলী খান, শাইখ আব্দুন নাসির জাংদা, শাইখ ওমার সুলেইমান

(২য় পর্ব)

আপনি আল্লাহর অবাধ্য হয়ে একটা সম্পর্কের ভেতর তার রাহমাহ কামনা করতে পারেন না। কিভাবে আল্লাহর অবাধ্য হয়ে তার নিকট রাহমাহর আশা করেন? এর সুযোগও আপনি পাবেন কি না সেটা কে গ্যারান্টি দেবে আপনাকে? আপনি যদি সম্পর্ক করেই ফেলেন, তবুও তাওবাহ করে সেটাকে হালাল করার চিন্তা করলেও সেটা যে হারাম কাজে জড়ায়নি তার মতো নয়। আপনি তাওবাহ করবেন আবার এমনও ভাববেন যে “তাকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করবোই না”। এর মানে আপনি হারাম সম্পর্কেই থাকতে চাচ্ছেন। সুতরাং পাপহীন ব্যক্তি এবং পাপ করে সেখানে আটকে থেকে তাওবাহকারীর অবস্থা আল্লাহর কাছে মর্যাদাগতভাবে ভিন্ন। আর আপনি পাপের মাঝে, একটা হারাম সম্পর্কের মাঝে থেকে এটাকে জায়েজ করার চিন্তা করে এতে সুখের কথা চিন্তা করেন কিভাবে? যেখানে আল্লাহর রহমত থাকবে না সেই হারাম সম্পর্কে। যার সাথে আপনি প্রেমের হারাম সম্পর্কে জড়িয়েছেন সেকি আসলেই ভালো ব্যক্তি? আপনার জন্য উপযুক্ত? আপনি এটা জানতে পারেন না। কারণ একজন ব্যক্তির সাথে ডাইরেক্ট চলাফেরা না করলে তার সম্পর্কে আপনি সত্যিকার জিনিস ও আচার-আচরণ জানতে পারেন না।
কারো সাথে যদি ইতোমধ্যে সম্পর্ক থেকে থাকে আপনার প্রথম দায়িত্ব হবে ঐ লোকের সাথে একটা মেসেজেই সম্পর্ক বন্ধ করে দেওয়া – এর বেশি আর কোনো যোগাযোগ নয়। সে যদি আপনাকে উলটো মেসেজ দেয় কেন সম্পর্ক রাখতে চাচ্ছো না, এটার জবাবও দেবেন না। আপনি এও বলে জবাব দেবেন না যে – এটা ইসলামে হারাম, আর হারাম সম্পর্ক রাখতে চাচ্ছি না। না, এরকমও উত্তর দেবেন না। একটা উত্তর দেওয়া মানে একটা যোগাযোগ বৃদ্ধি আর শয়তান এটারই সুযোগ নেবে, আরেকটা যোগাযোগের। আপনি টোটাল অফ – একেবারে অফ হয়ে যান। হারাম সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসুন। আপনার যদি আরেকজনের প্রতি ভালোবাসা থেকেই থাকে তবে তাকে আল্লাহর অবাধ্য হতে সাহায্য করবেন না এবং নিজেও সে পথে যাবেন না। নিজেকে এবং অন্যকে জাহান্নামের পথে নিয়ে যাওয়াটা কাউকে ভালোবাসা না, শয়তানকে সাহায্য করা, নির্লজ্জ্বতা প্রসারে সহায়তা করা। আর আপনি কাউকে ভালোবাসলে অবশ্যই এসব বন্ধ করেবেন এখনই। সে যদি চিন্তাই করে ভালো কিছুর, অবশ্যই উপযুক্তভাবে বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে আসবে তার পরিবারের পক্ষ থেকে। আর যদি সে সামর্থ্য নাই থাকে, তবে এই হারাম সম্পর্কে জড়িয়ে নিজে এবং আরেকজনকে জাহান্নামের দিকে ডাকবে না, আল্লাহর অবাধ্য হতে বলবে না।
এর মাঝে যারা হারাম সম্পর্ক স্থগিত করে বিয়ে প্রস্তাব নিয়ে আপন পিতামাতার সাথে কথা বলবে, সেখানে তারা অবশ্যই কি বলবে সেটার চেয়েও কীভাবে বলবে সেটা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আপনি বাবা-মাকে বিয়ের কথা বলবেন, কিন্তু অধিক গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি তাদেরকে কীভাবে সেটা বলছেন। আপনি এভাবে বলবেন না যে, তোমরা মানো আর নাই মানো, আমি ঐ মেয়ে/ছেলেকেই বিয়ে করবো, তোমরা যাই খুশি তাই করো। না, এভাবে বলবেন না। পিতামাতা একজন সন্তানকে তাদের জীবনের চাইতেও বেশি ভালোবাসে, আপনি তাদের সাথে এরকমভাবে কথা বলতে পারেন না। আপনার উচিৎ তাদেরকে সুন্দরভাবে কনভিন্স করা। আপনি এভাবে বলতে পারেন, আমি তাকে পছন্দ করি, তার এই এই গুণ রয়েছে, আমি দেখেছি তার এই এই সম্ভবনা রয়েছে, আমি তাকে বিয়ে করতে চাই – এখন আপনারা যদি আমাকে সহায়তা করেন আমার জন্য ভালো হয়। আর এসদব দিকে পিতামাতারও ভালোভাবে দেখা উচিৎ কোনটি ভালো হয়।
আপনি মনে করবেন না যে আপনি একজনের সাথে দুই বছর বা তিন বছর হারাম সম্পর্ক চালিয়ে গেছেন আর বিয়ে করলেই আপনি সুখি হবেন। না, একথা কখনই চিন্তা করবেন না। আপনার নিয়ত যদি সত্যইকারভাবে ভালো থাকে, আগে হারাম সম্পর্ক থেকে পিছিয়ে আসুন, আল্লাহর দিকে আসুন, তাওবাহ করুন। এরপর আপনি দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোকের পরামর্শ নিন একে বিয়ে করা যাবে কি না। কারণ বিয়ে আপনার সারা জীবনের বিষয়, এটা যৌক্তিক বিষয়, আবেগের বিষয় নয়। সুতরাং তাওবাহ করুন আগে, আল্লাহর দিকে ফিরে এসে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিশুদ্ধ নিয়ত করে ফেলুন। আপনার সারা জীবনের সম্পর্কে আবেগের ডিসিশনে হবে না, আপনাকে যৌক্তিক উপায়ে, অভিজ্ঞদের পরামর্শ করেই নিতে হবে। কারণ আপনি যে হারাম সম্পর্কের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন, সেখানে কেবল পার্ক, রেস্টুরেন্ট আর রাতের মধুর কথার গুঞ্জরণ, সেখানে নেই কোন বাস্তবতা আর না আছে দুজনের জীবনের সামঞ্জস্তার ক্ষীণ দৃশ্যাবলী। হারাম সম্পর্কের সব চালচলন, খাওয়া দাওয়া, পার্কে গমন সবই উপরের দৃশ্য, এগুলো ফ্লপ এবং ভূয়া। আর একারণেই এসব বিয়ে বাস্তবতায় এসে ভেঙ্গে যায়। এজন্য সম্পর্কে জড়িয়ে থাকলেও আল্লাহর দিকে আগে আসুন, তাওবাহ করুন, এরপর যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিন যে এখানে বিয়ের মতো দীর্ঘ সম্পর্ক করা আসলেই বাস্তবতার সাথে যায় কিনা। সম্পর্ক যেন কেবল পূর্বের হারাম সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার জন্য না হয়, এজন্য আপনার তাওবাহ ও আল্লাহর দিকে ফিরে আসাটা সত্যিকারভাবেই জরুরী; দুনিয়ার দীর্ঘ সময়ের জন্য সুখী হওয়ার জন্য, আখিরাতের অনন্তকালের জীবনে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
বি.দ্রঃ আমরা এটি উস্তাদ নুমান আলী খানের লেকচার থেকে বাংলাভাষাভাষীদের উপযোগী করে তৈরি করা। এটি হুবহু অনুবাদ নয়, বরং লেকচারের ভাবকে নিয়ে বাংলায় লিখিত।

প্রেম ও শারীরিক সম্পর্কঃ এক টুকরো মাংস ও প্রতারণার কাহিনি – উস্তাদ নুমান আলী খান
(৩য় পর্ব)

বি.দ্র.: এটি জনপ্রিয় টিভি শো The Deen Show এর একটি প্রোগ্রাম, যেখানে বিভিন্ন ইসলামি স্কলার ও দাঈরা আসেন ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য। উস্তাদ নুমান আলী খান এসেছিলেন একটি প্রোগ্রামে। সেখানে একটি বোনের ইমেইলের আলোকে উঠে আসে প্রেম ও শারীরিক সম্পর্কের কিছু কথা – সেগুলো নিয়েই অত্র লেখাটি বাংলাভাষীদের জন্য সম্পাদিত আকারে আমরা ISB Team নিয়ে এসেছি, যেখানে উক্ত বিষয়ের ব্যাপারে কিছু কাউন্সেলিংমূলক কথাবার্তা উঠে এসেছে, সেই সাথে এসেছে ধর্মীয় কল্যাণকর উপদেশাবলি; যাতে আল্লাহর পথে ফিরে আসার পথ সুগম হয়।
বোনের প্রশ্নঃ
আমাকে একটু হেল্প করবেন? আমি খুবই অসহায় ও বিষন্নতায় অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। আমি কান্নাটুকু পর্যন্ত থামাতে পারছি না। আমি ১৭ বছরের একজন বালিকা। আমি একটা ছেলের সাথে মেসেজে কথাবার্তা বলতাম, এভাবে কথাবার্তা চালিয়ে যাবার কারণে একটা সময়ে ঐ ছেলের সাথে ইমোশনালি আটকে যাই। কিন্তু এখন আমি খুবই অস্থির হয়ে পড়েছি, আমি তাওবা করছি এরপরে যেসব ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর জন্য। আমি গত বছর তার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলাম, তার সাথে বাজে জিনিসও (শারীরিক সম্পর্কসহ অন্যান্য) করেছিলাম। আমি জানি আমি খুব খারাপ হয়ে গেছি, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই। আমি জানি এই পৃথিবীটা খুবই স্বল্প সময়ের, আমি চাই না জাহান্নামে যাই এই ক্ষণিকের পৃথিবীতে অবাধ্যতার কারণে। আমি জানি এই লোকের সাথে আমার ভবিষ্যৎ নেই, কিন্তু তবুও কেন আমি তাকে বারবার অনুভব করি? যদিও সে আমাকে তার আসল (মন্দ) চেয়ারাটাও দেখিয়েছে। এমনকি সে আমাকে এও বলেছে যে ‘আমি আর তোমাকে ভালোবাসি না’। আমি এখন মনে করি ইসলামই কেবল আমাকে সুখের দরজাটা দেখিয়ে দিতে পারে। আমি প্র্যাক্টিজিং মুসলিমা না, আমি প্রচূর পাপও করেছি, আমার জন্য কি আর কোনো আশা অবশিষ্ট আছে? প্লিজ ভাই, আমাকে সহায়তা করুন।
উপস্থাপকঃ
ভাই নুমান আলী খান, আমরা দেখেছি এই বোনটি অনেক পাপ করেছে, ভুল করে ফেলেছে। আমরা জানি আল্লাহ খুবই করূণাময়, অসীম দয়ালু, তিনি গুনাহ ডেকেও রাখেন, আমরা চাই না এই বোনটি আশাহত হোক। আপনি বোনের প্রশ্নটি শুনেছেন, তিনি ভুল করে ফেলেছেন, একটা বাজে ছেলের সাথে আটকে গেছে। অনেক সময়েই বোনেরা এসব বিষয়ে বড় ধরণের বোকামি করে থাকে আর ছেলেরা শিকারীর মতো এর সুযোগ নেয় আর পরে সে সব ছেড়ে ভেগে পড়ে। আমরা চাই না এরকম আর কোনো বোনের বেলায় হোক আর এজন্য আমরা চাই আপনার আলোচনা থেকে সবাই উপকৃত হোক এইসব বিষয়াবলীতে।
উস্তাদ নুমান আলী খানঃ
ধন্যবাদ আপনাকে।
প্রথমত, পবিত্র কুরআন ও হাদীসে ‘ফাহশাহ’ (নির্লজ্জতা, বেয়াহাপনা, লজ্জাহীনতা) কে একটি সর্বোচ্চ পাপ হিসেবে বলা হয়েছে, প্রকৃতই একটা বড় ব্যাপার এটি। আমার দৃষ্টিতে আজকের যুগে পিতামাতার অবাধ্যতার পরেই এই কাজটি যুবক-যুবতীরা সর্বাধিক করে থাকে। এর শুরু হয়ে থাকে টেকনোলজি (প্রযুক্তি) দিয়ে – সেটা হতে পারে ফেইসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটার, মেইল এবং ইন্টার্নেটের পর্নোগ্রাফি ইত্যাদি। এগুলো দিয়ে প্রথমে শুরু হয়ে এর বাস্তবিক রুপ ধারণ করে শারীরিক সম্পর্কের মতো বড় নির্লজ্জ ও নিকৃষ্ট কর্মে – আর এটি মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সবার ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে।
বোনের প্রশ্নটির দিকে আগে আসি, কোনো আশা আছে কি না এবং এরপরে আমরা এসব সম্পর্কের বিপদাপদ ও অন্যান্য ফল নিয়ে আলোচনা করবো।
এই বোনের জন্য আশা বাকী আছে কি? আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা প্রত্যেক পাপীকেই বলেন আশা হারিও না, নিরশা হয়ো না। তিনি খুবই ইন্টারেস্টিং শব্দ ও বাক্য চয়নের মাধ্যমে বলছেন,
“হে আমার বান্দারা! তোমরা যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ (আল্লাহর সীমারেখার বিরুদ্ধে এবং নিজেদের অপরাধের কারণে নিজেরাই ভোগান্তিতে পড়ে), তারা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের সকল গুনাহ মাফ করে দিবেন। তিনি অতিব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু”। [ সূরা জুমারঃ ৫৩]
তাওবাহর ব্যাপারে আল্লাহর এই মূলনীতি নিয়ে আলোচনার পূর্বে আমি সূরা ফুরকানের একটা গুরুত্বপূর্ণ আয়াত নিয়ে কথা বলবো। সেটা হলো, আল্লাহ এমন এক ব্যক্তির কথা আলোচনা করছেন যে কাউকে হত্যা করেছে অথবা জিনা (বিবাহ বহির্ভূত অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক) করেছে। আমরা এই আয়াত দিয়ে দেখবো বিশুদ্ধ তাওবাহ আসলেই কি জিনিস। আল্লাহ এই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেন,
“তারা নয়, যারা তওবা করে, ঈমান আনে ও সর্বদা সৎকাজ করতেই থাকে; আল্লাহ ওদের পাপগুলোকে পুণ্যে রূপান্তর করে দেবেন এবং আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।” (২৫:৭০)
এখানে তিনটি জিনিস রয়েছে
(১) তারা তাওবাহ করে আল্লাহর কাছে ফিরে এসেছে।
(২) এভাবে সে নিজের ঈমানকে নবায়ন করেছে আল্লাহ আখিরাত ও অন্যান্য বিষয়ের প্রতি।
(৩) এরপর সে সর্বদা ভালো কাজ করতেই থাকে।
আল্লাহ এদের ব্যাপারেই ঐ আয়াতেই বলেছেন যে, এদের একটা বিশাল পাহাড় পরিমাণ পাপকেও আল্লাহর ক্ষমা ও দয়া দিয়ে সম্পূর্ণ সাওয়াব ও সৎকাজে রুপান্তরিত করে দেবেন!! তিনি আপনার সমস্ত ময়লাকে ডায়মন্ডে পরিবর্তিত করে দেবেন কেবল যদি উক্ত তিনটি কাজ করেন। ঈমান নবায়নের বিষয়ে একটা কথা হলো, এটা কেন দরকার? কারণ হলো, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
“একজন চোর যখন চুরি করে তখন সে তার ঈমানদার থাকে না”। এভাবে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
“একজন জেনাকারী যখন জেনার কাজ করে সে তখন আর মুমিন থাকে না”। কারণ জেনাকারীর ঈমান থাকে না বলেই সে লজ্জাহীন (লজ্জা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যা পাপ থেকে বিরত রাখে) হয়ে খারাপ কাজে পতিত হয়। আর একারণেই তাকে পূনরায় ঈমান আনতে হয়। এটা রাসূলের খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা। আল্লাহ ঈমানের ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে প্রথমেই বলেছেন তার দিকে ফিরে আসো, এরপর ঈমান নবায়ন করো।
এখানে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপস্থাপক তুলে ধরেছেন, সেটা হলো, যেহেতু একজন এরকম জঘন্য পাপকারী পাপে রত থাকা অবস্থায় ঈমান থাকে না, সে যদি এরূপ অবস্থায় মারা যায় তাহলে তো সে মহা বিপদের মাঝে অবস্থান করছে, যেহেতু তার ঈমান নেই তখন। এরূপ অবস্থা বাংলাদেশেও প্রচূর হয়, যেমন প্রেমিকা প্রেমিকের সাথে দেখা করতে গিয়েছে আর সেখানে প্রেমিক বন্ধুসহ তাকে ধর্ষণ করে খুন করে ফেলেছে। মেয়েটি গিয়েছিলো প্রেমিকের সাথে জিনা করতে, শারীরিক মেলামেশা করতে কিন্তু প্রেমিক আরো কয়েকজনসহ ধর্ষণ করে হত্যাই করে ফেলল যেন কেউ জানতেই না পারে এই ধর্ষণের ব্যাপারে। সে ঈমানহীন অবস্থায় মারা গেল, তাওবার কোনো সুযোগই পেলো না। অথবা কয়েকমাস আগে রাজশাহীতে এক প্রেমিক-প্রেমিকা জুটি হোটেলে লাশরত অবস্থায় দেখা গেলো, হয়তো এই অবৈধ কাজের সুবিধার কারণে হোটেলের কারো সাথে লেনদেনে অসুবিধা হওয়ার কারণে দুজনেই খুন হলো। এরাও কেউ তাওবার সুযোগই পেলো না। এভাবে আজিমপুরে লিভটুগেদাররত মেয়েটিকেও হত্যা করে পালিয়ে গেলো প্রেমিক, তাওবাহর কোনো সুযোগই পেলো না। এভাবে এরা ঈমানহীন অবস্থায় মারা গেলো। অথবা পাপেরত আছে এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ভালোই আছে, জীবন ভালোই চলছে; হঠাৎ একদিন কোথাও গমনের সময় রোড এক্সিডেন্টে মারা গেলো, সেও তাওবাহর কোনো সুযোগই পেলো না।
এ ব্যাপারে উস্তাদ নুমান আলী খান বলেন, আলেমরা এ বিষয়ে বলেছেন যে এই ধরণের লোক যেহেতু শাহাদাহ উচ্চারণ করেছে সে হিসেবে মুসলিম কিন্তু ঈমানহীন অবস্থায় মারা গেলো, মানে সে সিরিয়াস সমস্যার সম্মুখীন হবে, অনেক ভয়ানক অবস্থায় সে পড়তে পারে আখিরাতে। এব্যাপারে আরো কঠোর ব্যাখ্যাও আছে উক্ত হাদীস বিষয়ে।
এসব জিনা-অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক ও প্রেম বিষয়ে প্রথম কথা হলো, কোনো কথা না বলে একদম স্টপ, ইমেইল, ফেইসবুক, টুইটার এসব বন্ধ করুন এসব, যেন কোনো ধরণের যোগাযোগ না হয়। আল্লাহর বিরপরীতে কারো কোনো কথা শোনার দরকার নেই, আল্লাহর অবাধ্যতায় কোনো ওয়াদা নেই, প্রমিজ নেই, পাপ থেকে বিরত হোন আগে, স্বল্প দুনিয়ার বিপরীতে অনন্ত আখিরাতের ঘরের সৌন্দর্য ও নেয়ামাতকে নষ্ট করাটা পুরো বোকামি, এর মাঝে একটু বুদ্ধিমত্তারও পরিচয় নেই (সমাধান বিষয়ে ১ম ও ২য় পর্বে আরো কিছু বিষয় উঠে এসেছে, সে পর্বগুলো অবশ্যই দেখুন)। আপনি যদি মনে করেন এক থাকার কারণে এসবের প্রভাব ফেলবে, তাহলে একাকী অবস্থান করা বন্ধ করুন, ভালো মানুষদের সঙ্গী হোন, মসজিদে অবস্থান করুন, আল্লাহর ইবাদাহ করুন, আপনার পিতামাতার খেদমত করুন, অন্যান্য ভালো বান্ধবীদের সাথে চলাফেরা করুন। এসবের মাঝে ব্যস্ততা আপনার পাপ করার সুযোগের সময়কে খেয়ে ফেলবে, আপনি পাপ করার সময় পাবেন না ভালো কাজে যুক্ত থাকার কারণে। আগে সত্যিকার এবং নিশ্চিতরূপে তাওবাহ করুন, এসব পাপ শক্তভাবে বন্ধ করুন।
অনেকেই আছে এসবের প্রতি প্রবলভাবে যুক্ত, যুক্ত থাকা অপছন্দও করে, নিজেদেরকে সেজন্য ঘৃণা করে আবার যুক্তও থাকে। যেমন ড্রাক এডিক্টরা ঐসব মাদককে ঘৃণা করে কিন্তু তবুও নেয় আর একারণে তারা নিজেদেরকে আরো ঘৃণা করতে থাকে। সুতরাং এরূপ অবস্থায় সর্বাধিক ফলপ্রসূ কাজ হলো আগে এসব পথ থেকে ফিরে আসতে হবে, বন্ধ করতে হবে পূর্ণরূপে। যে সময়, বন্ধু-বান্ধব এবং সুযোগ এসবের প্রতি আপনাকে নিয়ে যায় সেগুলোর পথগুলো বন্ধ করুন, সম্পূর্ণরুপে। এটা হলো প্রথম কথা।
এখন এই বোন যে ছেলেটির সাথে এভাবে জড়িয়ে গেছে, এর কারণ হলো মেয়েটি ইমোশনালি (আবেগে) জড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ মেয়েদেরকে আবেগের দিক থেকে অনেক বড় করে সৃষ্টি করেছে। এই আবেগকে ভালো পথে পরিচালিত করলে সেটা হয় শক্তিশালী (স্বামী, সন্তান, পিতামাতার প্রতি) জিনিস আর মন্দ পথে পরিচালিত করলে এটাই হয় ধ্বংসের কারণ (অবৈধ সম্পর্কে)। এভাবে ছেলেটি মেয়েটি ইমোশনালি আটকাতে চায়, এজন্য সে যত ধরণের আপাত সৌন্দর্যময় কথা আছে বলে, মিষ্টি যত কথা আছে বলে মেয়েটিকে ফাঁদে ফেলতে চায় (১ম পর্বে আরো বিস্তারিত আছে এসব ফাঁদ বিষয়ে)। এসব কথা ছেলেটির কোনো উদ্দেশ্য না, ছেলেটির উদ্দেশ্য কেবল তার মনের খায়েশ মেটানো – একটাই উদ্দেশ্য। আপনি ইমোশনালি ঘায়েল মানে আপনি দূর্বল এবং ছেলেটি শিকারীর ভূমিকায় হামলার জন্য প্রস্তুত আর হামলার পর আপনি অক্ষত থাকবেন না, যন্ত্রনা ও অসুস্থতার শুরু কেবল। এভাবে ছেলেটির এজেন্ডা বাস্তবায়নের পর ছেলেটির কাছে আপনি এক টুকরো ব্যবহৃত মাংসের খন্ড ব্যতীত আর কিছুই না। দূর হ আমার থেকে, আমি তোকে আর ভালোবাসি না, অন্য কাউরে বিয়ে কর ইত্যাদি। অবৈধ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ছেলেদের সাইকোলজি এটাই।
আপনি এই সম্পর্কে আবেগে জড়িয়ে পড়েছেন, ছেলেটিও তার আসল চেহারা দেখিয়ে দিয়েছে, এখন সমাধান হলো আপনি তার থেকে পূর্ণরূপে ফিরে আসুন, বন্ধ করুন পাপের খেলা। তাওবাহ করুন পূর্ণরূপে, আপনার দ্বীন শিখতে শুরু করুন, আল্লাহর ইবাদাতে মগ্ন হোন, ভালো কাজে সময় ব্যয় করুন।
আমি জানি আপনি অনেক কান্নাকাটি করেছেন। কিন্তু এই কান্নাকাটি ঐ ছেলের জন্য না করে আল্লাহর কাছে তাওবাহর জন্য করুন। ঐ ছেলের জন্য আপনার কান্না কোনো কাজে দেবে না, আল্লাহর জন্য, আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে বিশুদ্ধ তাওবাহ করুন। আল্লাহ সর্বাধিক ভালোবাসেন ঐ ব্যক্তিকে যে তাওবাহ করে তার জন্য চোখের অশ্রু ফেলে, এই কান্নায় ভেজা চোখ আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়, বান্দাটি অধিক ভালোবাসার পাত্র।
৩য় পর্ব শেষ। নিচে ৪র্থ পর্ব

কিন্তু নারীদের প্রতি আকর্ষণ তো স্বাভাবিক ব্যাপার!
তাহলে উপায়? – উস্তাদ নুমান আলী খান (৪র্থ পর্ব)

উপস্থাপকঃ
আমাদের সমাজে অনেক সময় দেখা যায় যুবকরা এসব বিষয়ে জড়িয়ে পড়ে, আবার তাদের অনেকেই ভালো কাজেও যুক্ত আছে, তারা রীতিমতো এডিক্টেড (আসক্ত) হয়ে গেছে মেয়েদের ব্যাপারে, তাদের ব্যাপারে আপনার পরামর্শ কি?
উস্তাদ নুমান আলী খানঃ
এই বিষয়টা খুবই শক্তিশালী এবং অবাক করা বিষয় হলো, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে এ বিষয়ে তীব্র সতর্কবানী দিয়েছে। তিনি বলেছেন, আমার উম্মাতের জন্য আমি সামরিক বাহিনির ধ্বংসের ভয় করছি না, অথবা বড় সশস্ত্র হামলারও না, আমার ভয় হলো পুরুষদের জন্য নারীদের চেয়ে (উভয়ের অবৈধ সম্পর্ক, নির্লজ্জ-বেহাপনার কারণে নৈতিকতার চূড়ান্ত ধস) আর অন্য কোনো জিনিসের বড় পরীক্ষার কথা চিন্তা করতে পারছি না। এটা হলো পুরুষের জন্য বড় পরীক্ষা, আবেগের অনৈতিক ইচ্ছা, আর শয়তান এই পথেই ধরবে পুরুষদের।
অনেক যুবক আছে যারা দাড়ি রাখে, ফজরে নামাজ পড়ে, কুরআন মুখস্ত করে আবার নারী বিষয় আসলেই সে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারে না। তারা অনেক সময় ভাবে, আরেহ আমি তো অনেক ভালো কাজ করি, আল্লাহ এই বিষয়টা মাফ করে দেবে, এটা তেমন বিষয় না। এটা মন্দ কাজ কিন্তু অতটা মন্দ নাহ। এভাবে নিজেকে জাস্টিফাই করার প্রবণতা থাকে।
অনেক যুবক আছে যারা দাড়ি রাখে, ফজরে নামাজ পড়ে, কুরআন মুখস্ত করে আবার নারী বিষয় আসলেই সে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারে না। তারা অনেক সময় ভাবে, আরেহ আমি তো অনেক ভালো কাজ করি, আল্লাহ এই বিষয়টা মাফ করে দেবে, এটা তেমন বিষয় না। এটা মন্দ কাজ কিন্তু অতটা মন্দ নাহ। এভাবে নিজেকে জাস্টিফাই করার প্রবণতা থাকে।
‘যখনই তারা একটা ফাহেশা বা মন্দ কাজ করে ফেলেছে’ – যে জিনিসের দিকে তাকানো উচিৎ নয় সেখানে তাকিয়ে ফেলেছে, যেসব কথা বলা উচিৎ নয় সেগুলো বলে ফেলেছে, যেখানে যাওয়া উচিৎ নয় সেখানে ভুলে গিয়েছিলো, এভাবে তারা নফসের ধোঁকায় পড়েছিলো। আল্লাহ এদের ব্যাপারে বলেন, তারা যেকোনো বিষয়েই ভুল করে ফেলেছে, তারা প্রথম কাজ কি করে এরূপ অবস্থায়? ‘জাকারুল্লাহা’ – তারা আল্লাহকে স্মরণ করে। তারা তাৎক্ষণিক আল্লাহকে স্মরণ করে।
এখন মনে করুন, এরূপ খারাপ কাজ করার পর আল্লাহকে স্মরণ করা কতটা কঠিন? কেউ চুরি করতেছে, তখন কি আল্লাহকে স্মরণ করবে? মন্দ জিনিসের দিকে তাকানো অবস্থায় কি কেউ আল্লাহকে স্মরণ করবে? না। তারা তাদের কর্মের ব্যাপারে এতটাই লজ্জিত যে আল্লাহর নামটুকু পর্যন্তও উল্লেখ করতে চায় না। কিন্তু আল্লাহ জান্নাতে প্রবেশকারীদের ব্যাপারে কি বলছেন? তারা কোনো শয়তানের ফাঁদে পড়ে গেলে তাৎক্ষণিক আল্লাহকে স্মরণ করে, তার নিকটে তাওবাহ করে খাঁটিরূপে এবং ফিরে আসে আল্লাহর কাছে।
এই স্মরণ বা তাওবাহ কেবল মুখস্ত আসতাগফিরুল্লাহ না। আপনি আপনার মায়ের অবাধ্য হয়েছেন, বাজে কথা বলেছেন আর অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে সরি বললেই হলো? না, এটা মাফ চাওয়া না। তাওবাহর মাঝেও আপনার আন্তরিকতা থাকতে হবে, লজ্জিত হতে হবে আপনার পাপের জন্য, সত্যিকাররূপের আল্লাহর পথে ফিরে আসার আকুতি থাকতে হবে, ভালো কাজের প্রবণতা বাড়িয়ে দিতে হবে – এটাই হবে প্রকৃত তাওবাহ ও ফিরে আসা আর তাওবাহকারীদের জান্নাতে যাওয়ার নিখাদ বৈশিষ্ট।
যেসব ভাইয়েরা নারী বিষয়ে আসক্ত হয়ে পড়েছেন, তাদে কর্তব্য হলো অবশ্যই আপনার বন্ধু-বান্ধব পরিবর্তন করুন। বিশেষত বন্ধু-বান্ধবের কারণেই এসব বিষয়ে জড়িয়ে পরে অধিকাংশই। অথবা ভালো বন্ধু রয়েছে কিন্তু তাদের প্রতি যথেষ্ট সময় দিচ্ছেন না, আপনাদের আরো ভালো বন্ধু খুঁজে তাদের সাথে সময় কাটাতে হবে যাতে মন্দ থেকে বিরত থাকতে পারেন, মন্দদের মন্দ করার সুযোগ দেওয়া থেকে বঞ্চিত করতে হবে। সৎ মানুষ জাহান্নামে আগুনে নেওয়ার পরিবর্তে আল্লাহর দিকে নিয়ে যাবে।
কিছু বিষয় আছে আল্লাহ ছাড়া আপনাকে কেউ সাহায্য করতে পারবে না, এজন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে, সাথে অন্যান্য বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। মনে করুন, ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর কথা। তিনি যুবক, একজন রাণীর বাড়িতে তার অবস্থান, সেখানে সে তাদের আশ্রয়ে আশ্রিত। সেই অনিন্দ সুন্দরী তাকে ডাকছে। যেকোনো ছেলেরই মেয়ের প্রতি দূর্বলতা থাকে, ইউসুফেরও ছিলো। কিন্তু মেয়েটি যখন তাকে ফুসলাতে শুরু করলো তখন তিনি কি করলেন? প্রথমে বললেন, নিশ্চয় আমি নিজেকে নির্দোষ মনে করি না, নিজেকে আকাঙ্ক্ষামুক্ত মনে করি না, আমিও তো এ বিষয়ে দূর্বল। এভাবে নিজের দূর্বলতা স্বীকার করে আল্লাহর সাহায্য চাইলেন। এর অর্থ নিজের দূর্বলতা ও শক্তি এখানে ব্যর্থ, যদি না আল্লাহ সাহায্য করে থাকেন।
আমাদের সমাজেও এমন যুবক রয়েছে যারা বলে, আরে না, আমি শক্তি, নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি। তাই? আপনি একজন সৎ নবীর চাইতেও অধিক সৎ? আসলে ঐসব পুরুষরা শয়তানের পূজায় লিপ্ত, যুক্তির ক্ষেত্রে শয়তানের পথানুসারী। ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) ঐ নির্লজ্জ কাজের চেয়ে জেলখানার বন্ধিত্বকে উত্তম বলেছেন, আর আমাদের যুবকেরা প্রতিনিয়ত এই কাজের দিকে অগ্রসর, যুবকের উদাহরণ ইউসুফ ( আলাইহিস সালাম) থেকে নেন, শয়তানের অনুসারীদের থেকে নয়। পবিত্র হৃদয় ব্যতীত কেউ জান্নাতে যাবে না, শয়তানের অপযুক্তিগুলো জাহান্নামের জন্যই।
উপস্থাপকঃ
অনেকেই বলে যে নারীর প্রতি আসক্তি – এটা স্বাভাবিক ব্যাপার, এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি?
উস্তাদ নুমান আলী খানঃ
হ্যা, এটা একদম স্বাভাবিক। এতটাই স্বাভাবিক যে আল্লাহ নিজেই সূরা আলে ইমরানে (১৪ নং আয়াত) এটার ব্যাপারে বলেছেন, যেগুলোর প্রতি মানুষের স্বভাবগতই টান থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু এগুলোর প্রত্যেকটি জিনিস অবৈধ ও হারাম পথে চাওয়া এবং জোড় জবড়দস্তি করাটাও অবৈধ এবং হারাম। এগুলোর প্রত্যেকটি পাওয়ার জন্য হালাল পথ আছে, সুখের পথ আছে। পৃথিবীতে যত খুন হয় সেগুলোর বেশিরভাগ হয় নারী বা সম্পদকেন্দ্রিক – যেগুলোর কোনো না কোনো লেভেলে হারামপন্থা জড়িত থাকে।
মানুষের জন্য সুশোভিত করা হয়েছে নারী, সন্তান-সন্ততি, রাশিকৃত স্বর্ণ-রৌপ্য, চিহ্নিত অশ্ব, গবাদি পশুরাজি এবং ক্ষেত-খামারের মত আকর্ষণীয় বস্তুসামগ্রী। এসবই হচ্ছে পার্থিব জীবনের ভোগ্য বস্তু। আল্লাহর নিকটই হলো উত্তম আশ্রয়। (সূরা আলে ইমরানঃ ১৪)
ঐ আয়াতের শেষে আল্লাহ বলেন, এগুলো সবই পার্থিব এবং ক্ষণস্থায়ী, যেমন ক্ষণস্থায়ী এই দুনিয়ার সব কিছু। আর শেষে আল্লাহ বলেন, এই যে দুনিয়াতে এত অনিন্দ সুন্দরী মেয়ে দেখতেছো, যার রূপ ও লাবন্যে তোমরা পুরুষরা পাগলপারা, এই যে সন্তান-সন্তুতি ও সম্পদের প্রতি তোমাদের আগ্রহ, এগুলো সবই আমার বিশাল রাজ্যের একটা ক্ষুদ্র কণামাত্র। এগুলো যদি এতো আকর্ষণীয় ও লোভনীয় হয়, তবে আমার এমন জান্নাত রয়েছে, যা কোনো চোখ কোনো দিন দেখেনি, যেই হুররা পৃথিবীতে এক টুকরো থু থু ফেললে এই পৃথিবীর সমস্ত পানি মিষ্টিতে পরিণত হবে, এই হুররাই যদি এতো আকর্ষণীয় হয় এবং এই এই হুররা আবার সৎ স্ত্রীদের রুপ ও গুণের তুলনায় অল্পই হয়, তবে আল্লাহ কেমন নেয়ামাত রেখেছে এই দুনিয়ার পার্থিব ক্ষণস্থায়ী জিনিসের তুলনায়, সেটা একবার কল্পনা করুন। আল্লাহ আহবান জানাচ্ছেন ক্ষণস্থায়ী হারামের ছোট্ট আরামকে ত্যাগ করে হালাল পথে চলে চিরস্থায়ী জান্নাতের দিকে, পূতঃপবিত্ররা ব্যতীত সেই জান্নাতে কেউ প্রবেশ করবে না। সুতরাং দুনিয়ার হারাম ও অবৈধ পথে নিজেকে অপবিত্র করবেন না, নিজের আত্মাকে জুলুমের শিকারের পরিণত করবেন না, এতে দুনিয়াতেও বিভিন্ন ঝামেলায় পড়ে কষ্টে পতিত হবেন, আখিরাতেও চরম ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে।
বলুন, আমি কি তোমাদেরকে এসবের চাইতেও উত্তম বিষয়ের সন্ধান দেবো না?-যারা আল্লাহর ভীতি রাখে হারাম থেকে, আল্লাহর নিকট তাদের জন্যে রয়েছে বেহেশত, যার তলদেশে প্রস্রবণ প্রবাহিত-তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল। আর রয়েছে পরিচ্ছন্ন পবিত্রা স্ত্রীগণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি সুদৃষ্টি রাখেন। (সূরা আলে ইমরানঃ ১৫)
আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন। আমীন।
—————————————————————————————————-
আমাদের এই ভালো কাজে কেউ শরিক হতে চাইলে, ভলিউন্টার হিসেবে কাজ করতে চাইলে মেসেজ দিতে পারেন (ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করা), হয়তো আপনার কাজের মাধ্যমে অনেকেই আল্লাহর পথে আসতে পারে, আপনার জন্য এটাই হয়তো নাজাতের উসিলা হতে পারে আল্লাহর রহমতে। আল্লাহর কাজ করার সুযোগ সবার হয় না, কেবল আল্লাহ যাদের বিশেষ নেয়ামতে রাখেন তাদেরই তিনি তাওফিক দেন।

@templatesyard